অ্যাকুরিয়ামের মেরিন কনজারভেশন অ্যাকশন তহবিল (এমসিএএফ) দ্বারা সমর্থিত প্রকল্পগুলির একটি পোস্ট হোলো এই পোস্টটি। এমসিএএফ সারা বিশ্বের গবেষক, সংরক্ষণবাদী, এবং বুনিয়াদি স্তরের সংগঠনগুলোকে সমর্থন করে যেহেতু তারা সমুদ্রের সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং সমস্যাগুলি সমাধান করার জন্য কাজ করে। এমসিএএফ, প্রিয়াঙ্কর চক্রবর্তী (পুনে, ভারতী বিদ্যাপীঠ পরিবেশ শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট [বিভিআইইআর] থেকে একজন স্নাতকোত্তর শিক্ষার্থী) এবং এমসিএএফের ফেলো ডাঃ রুথ লিনির নেতৃত্বে একটি প্রকল্পের অর্থায়ন করেছে, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে করাত-মাছের মূল্যায়নের জন্য। এই অংশটিতে প্রিয়ঙ্কর লিখেছেন ভারতীয় সুন্দরবনেসাম্প্রতিক কালে করাত – মাছ দেখতে পাওয়া, তাদের প্রকল্পে COVID-19 এর প্রভাব এবং সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড়ের ঘটনায় জেলেদের কাছ থেকে লক্ষণীয় অনুসন্ধানগুলি সম্পর্কে। সুন্দরবনের করাত-মাছের ওপর প্রিয়ঙ্কারের আগের ব্লগটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন।

For the English version, click here.

করাত মাছ বেশি দেখা যাচ্ছে

কোভিড-১৯ লকডাউনে সাড়া দিয়ে কি ভারতীয় সুন্দরবনে করাত মাছেরা ভালো আছে?

দুই মাসের মধ্যে তিনটি ফোন পেয়ে মনটা ভালো হয়ে গেল। তিনজনই খবর দিলেন সুন্দরবনে করাত মাছ ধরে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। এখন কেন আগের তুলনায় ওখানে বেশি করাত মাছ দেখা যাচ্ছে?

মৎস্যজীবীদের মতে (ওনারা নিজেদের নাম প্রকাশ্যে আনতে চান না), সুন্দরবন অঞ্চলে এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি ধরণের মাছ চোখে পড়ছে। এর কারণ হিসেবে দুজন মৎস্যজীবী জানিয়েছেন কোভিড-১৯ অতিমারির ফলে লকডাউন হওয়ায় যন্ত্রচালিত ট্রলারগুলি সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়নি। এর ফলে করাত মাছ সহ অন্যান্য মাছেরা নিশ্চিন্তে সুন্দরবনের নদীগুলিতে আসবার সুযোগ পেয়েছে।

তবে একজন মৎস্যজীবী মনে করেন যে সম্প্রতি যে ‘উমপুন’ (অথবা ‘আমফান’) সাইক্লোন হওয়ায় হঠাৎ করেই  সুন্দরবন অঞ্চলে করাত মাছ সহ অন্যান্য ইলাসমোব্রাঞ্চদের সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। ওনার মতে সাইক্লোনের কারণে যে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তাতে নদীগুলিতে জলস্তর বেড়েছে এবং সমুদ্রের নোনা জল ম্যানগ্রোভের গভীর পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। নোনাভাব বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে করাত মাছেরা নতুন নতুন এলাকায় চলে আসতে পেরেছে।

মৎস্যজীবীরা যে তিনটি করাত মাছ দেখেছেন, সেগুলি স্ত্রী-জাতির। ওজনে সেগুলি ৫-৭ কেজির মতো। লকডাউনের কারণে আমি সুন্দরবনে গিয়ে মৎস্যজীবীদের কাছে ছবি দেখিয়ে সত্যতা যাচাই করতে পারিনি।

একজন মৎস্যজীবী উচ্ছাসভরে জানালেন যে করাত মাছটি উনি ধরেন, তার রোস্ট্রামটি অদ্ভুত। অন্য যে করাত মাছগুলি আগে উনি দেখেছিলেন, তার তুলনায় এটি বেশ সরু। উনি আরও জানান যে রোস্ট্রামে দাঁতগুলিও তুলনামূলক ভাবে বেশ ছোট এবং তাদের মধ্যে ফাঁকগুলিও যথেষ্ট কম। যে মাছটি উনি ধরেছিলেন, সম্ভবত সেটি অ্যানোক্সিপ্রিস্টিস কাস্পিডাটা প্রজাতির, যার রোস্ট্রামটি সরু হয়। সুন্দরবনে এই প্রজাতির করাত মাছ পাওয়া যেত, কিন্তু অনেক কাল তার হদিশ ছিল না।

যে নির্দিষ্ট স্থানটিতে সরু রোস্ট্রামওয়ালা করাত মাছটি হাতজালে জোয়ারের সময়ে ধরা পড়ে (ছবি অসীম গায়েন)

তিন মৎস্যজীবীই জানান যে করাত মাছগুলি ধরার পর সেগুলিকে ওনারা ছেড়ে দিয়েছিলেন। কারণ, গত বছর সুন্দরবনে ম্যানগ্রোভ সিস্টেমে করাত মাছের গুরুত্ব বিষয়ে তথ্য প্রসারণের জন্যে আমি যে কর্মশিবিরটি আয়োজন করেছিলাম, তার থেকে ওনারা এটাই শিখেছিলেন। ওনারা জানান যে এলাকায় অন্যান্য মৎস্যজীবীরাও গত মাস দুয়েকের মধ্যে করাত মাছ, লাঙলফাল মাছ এবং হাঙর ধরেছিলেন। কিন্তু মাছগুলিকে ওনারা ছেড়ে দিয়েছেন কিনা, সে বিষয়ে এনারা নিশ্চিত নন।

শিশু অ্যানোক্সিপ্রিস্টিস কাস্পিডাটা-র একটি নমুনা, যা ১৯০৮ সালে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে সংগ্রহণ করা হয়। নমুনাটি জ্যুলজিকাল সার্ভে অফ ইণ্ডিয়া-য় সংরক্ষিত আছে। সাম্প্রতিক কালে সুন্দরবন অঞ্চলে এই মাছটির নমুনাভিত্তিক কোনও বৈজ্ঞানিক নথি নেই (ছবি – প্রিয়ঙ্কর চক্রবর্তী)

এখন অনুসন্ধান করে দেখা প্রয়োজন মাছ ধরার নৌকা না চলা এবং ম্যানগ্রোভ অঞ্চলে করাত মাছের উপস্থিতির মধ্যে সংখ্যাভিত্তিক কোনও প্রমাণ আছে কিনা। অথবা এটাও দেখতে হবে যে করাত মাছ দেখার সংখ্যা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সম্প্রতি ঘটে যাওয়া প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের কোনও সম্পর্ক আছে কি না। কোভিড-১৯ লকডাউন উঠে যাওয়ার পর অবস্থার উন্নতি না হওয়া অবধি আমি সুন্দরবনে গিয়ে পরিস্থিতিটি নিজে যাচাই করতে পারছি না। কিন্তু মনে করছি এই আশাপ্রদ ঘটনাগুলি যেন ওই মাছটির পরিবারের সপক্ষেই যায় যারা আজ পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন।